বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড ২০১৪(জাতীয় পর্যায়)

শাফায়েত আশরাফ | মার্চ ২০, ২০১৪

অবশেষে বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হলো। ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ৫ বিভাগে একসাথে অনুষ্ঠিত ডিভিশনাল পর্যায়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মোট ৭৫জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এরমধ্যে সিনিয়র গ্রুপে ক্লাস টেন থেকে ২০১৩ সালের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থী ছিলো ৫০জন এবং জুনিয়র গ্রুপে ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস নাইনের শিক্ষার্থী ছিল ২৫ জন।

গতবারের মতো এবারও বারিধারায় ইউনিভার্সিটি অফ ইনফরমেশন টেকনোলজী(UITS) এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে এসিএম(ACM) স্টাইলের পরিবর্তে আইওআই(IOI) স্টাইলে প্রতিযোগীতা হয়েছে, কেও কোন সমস্যা আংশিক সমাধান করলে তাকেও কিছু পয়েন্ট দেয়া হয়েছে। এছাড়া পিসি^২ সফটওয়্যারে বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কোডমার্শাল অনলাইন জাজ যেটা তৈরি করেছেন মুক্তসফট সফটওয়্যার লিমিটেডের প্রকৌশলী মাহমুদ রিদওয়ান।

IOI 2013

বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড ২০১৪: জুনিয়র গ্রুপের বিজয়ী আসিফ জাওয়াদ



জুনিয়র গ্রুপে ছিলো মোট ৫টি সমস্যা। এর মধ্যে ৪টি সমাধান করে বিজয়ী হয় আসিফ জাওয়াদ। সর্বমোট ৪২৫ পয়েন্ট পেয়েছে সে, ৪টি সমস্যায় ১০০ পয়েন্ট ছাড়াও ৫ম সমস্যায় সে পেয়েছে ২৫ পয়েন্ট, তার সাবমিশনও ছিলো মাত্র ৫টি! প্রায় পুরো কনটেস্টে প্রথম পজিশনে থেকে বেশ সহজেই জুনিয়র গ্রুপ জয় করে নেয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর এই ছাত্র। এটা ছিলো তার প্রথম ইনফরমটিক্স অলিম্পিয়াড!

জুনিয়র গ্রুপে চমক দেখায় সপ্তম শ্রেণীর রুহান হাবিব। সে ছিলো সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী। ৬মিনিটে প্রথম প্রবলেম সলভ করার পর ৭৪ মিনিটের মাথায় সে "সি" নম্বর প্রবলেম সলভ করে চমকে দেয় জাজদের। এরপরে ১৭৩ এবং ২৬১তম মিনিটে আরো দুটি প্রবলেম সলভ করে রুহান। কনটেস্ট শেষে জানা গেল রুহান রুবি, জাভাস্ক্রীপ্ট ল্যাংগুয়েজে আগে থেকেই পারদর্শী, এখন সে সি++ শিখছে।

জুনিয়র গ্রুপে প্রথম ৬জনকে মেডেল দেয়া হয়:

গোল্ড মেডেল

  • আসিফ জাওয়াদ,
  • রুহান হাবিব

সিলভার মেডেল

  • তানজিম আজওয়াদ জামান,
  • ফাতিন আনাম রাফিদ

ব্রোঞ্জ মেডেল

  • আজমাইন ইকতিদার,
  • রিতুরাজ দাস গুপ্তা

জুনিয়র গ্রুপের সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে এখানে

IOI 2013

বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড ২০১৪: সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ী লাবিব মো: রশীদ



দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সিনিয়র গ্রুপে ইন্টারনেট জনিত ঝামেলার কারণে প্রতিযোগীরা সরাসরি কোডমার্শাল এ সাবমিট করতে পারেনি। শেষে বিকল্প হিসাবে তাদের বলা হয় কনটেস্ট শেষে কোডগুলোকে একসাথে করে জমা দিতে, পরে স্ক্রীপ্ট চালিয়ে তাদের কোড জাজ করা হয়, এ ব্যাপারেও সাহায্য করেছেন মাহমুদ রিদওয়ান। ফলে অনেকটা টপকোডার স্টাইল প্রতিযোগীতার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগীদের।

জাজিং বন্ধ থাকার কারণে প্রতিযোগীতা চলার সময় সিনিয়র গ্রুপের কেও তাদের অবস্থান জানতে পারেনি, এদিকে আমরাও সেসময় জানতে পারিনি কে কোনটা সলভ করছে। চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায় পুরস্কার ঘোষণার সময়। প্রথম ৪জনের পয়েন্টের ব্যবধান ছিলো খুব কম। ৩২০ পয়েন্ট নিয়ে অলিম্পিয়াড জিতে নেয় লাবিব মো: রশিদ। দ্বিতীয় স্থানে ছিল আইওআই এর ব্রোঞ্জ মেডেলিস্ট এবং এবারের প্রতিযোগীতার অন্যতম ফেভারিট বৃষ্টি শিকদার, তার পয়েন্ট ৩১৪। ৩১০ পয়েন্ট নিয়ে ৩য় স্থানে ছিলো হাসিব আল মুহাইমিন। হাসিবের থেকে মাত্র ৪পয়েন্ট কম পেয়ে চতুর্থ স্থান এবং সিলভার মেডেল জয় করে দিব্যতনয় ভট্টাচার্যি।

সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ীরা হলো:

গোল্ড মেডেল

  • লাবিব মো: রশিদ,
  • বৃষ্টি শিকদার,
  • হাসিব আল মুহাইমিন

সিলভার মেডেল

  • দিব্যতনয় ভট্টাচার্যি,
  • তন্ময় মল্লিক,
  • ইমরান হাসান

ব্রোঞ্জ মেডেল

  • তানজির ইসলাম,
  • নাদিম উল আবরার,
  • মীম আরাফাত মানব,
  • মো: তারেক মাহমুদ

সিনিয়র গ্রুপের সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে এখানে

জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের থেকে ক্যাম্পে যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ চারজনকে পাঠানো হবে তাইওয়ানে আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে। ক্যাম্পের সময় এবং কতজনকে নেয়া হবে সেটা শীঘ্রই জানিয়ে দেয়া হবে।

আমরা অনেকেই স্কুল-কলেজে থাকতে প্রোগ্রামিং কি সেটাই ঠিকমত জানতামনা, অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া দূরের কথা। সেই হিসাবে আজকে ফলাফল যাই হোক তোমরা এই দেশের অনেকের থেকে এগিয়ে আছো, তোমরা হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে গেলে আরো অনেক সাফল্য আসবেই। আর তোমাদের দায়িত্ব হবে বন্ধুদের অলিম্পিয়াডের কথা জানানো, তাদের উৎসাহ দিয়ে এখানে নিয়ে আশা। বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী এবং ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক সকলের প্রতি শুভকামনা থাকলো।


শাফায়েত আশরাফ

২০১২ এর ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং কন্টেস্টের চ্যাম্পিয়ন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন।